কীচক বধম

কীচক বধম
পরিচালক রঙ্গস্বামী নটরাজ মুদালিয়র
প্রযোজক রঙ্গস্বামী নটরাজ মুদালিয়র
রচয়িতা চ. রাঙ্গাভাদিভেলু
শ্রেষ্ঠাংশে রাজু মুদালিয়ার
জীবর্থনাম
চিত্রগ্রাহক আর. নটরাজ মুদালিয়ার
সম্পাদক আর. নটরাজ মুদালিয়ার
প্রযোজনা
কোম্পানি
ইন্ডিয়া ফিল্ম কোম্পানি
মুক্তি ১৯১৬–১৯১৮[ক]
দেশ ভারত
ভাষা নির্বাক
নির্মাণব্যয় ৩৫,০০০[৩]
আয় ৫০,০০০[৪]

কীচক বধম (বাংলা: কীচকের হত্যাকাণ্ড) হলো একটি ভারতীয় নির্বাক চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটি রঙ্গস্বামী নটরাজ মুদালিয়র দ্বারা প্রযোজিত, পরিচালিত, চিত্রগ্রহণ করা এবং সম্পাদিত। চলচ্চিত্রটি দক্ষিণ ভারতে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র এবং এটি নটরাজ মুদালিয়ারের প্রযোজনা সংস্থা, ইন্ডিয়া ফিল্ম কোম্পানি-তে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে চিত্রধারণ করা হয়। যেহেতু চলচ্চিত্রকর্মীদের সদস্যরা তামিল জাতির ছিলেন, সেহেতু কীচক বধম চলচ্চিত্রটিকে প্রথম তামিল চলচ্চিত্র হিসেবে গণ্য করা হয়। এটির কোন মুদ্রণ বেঁচে আছে বলে জানা যায়নি, যা চলচ্চিত্রটিকে একটি হারানো চলচ্চিত্র তালিকায় তালিকাভুক্ত করে।

চ. রাঙ্গাভাদিভেলু দ্বারা লিখিত চিত্রনাট্যটি হিন্দু মহাকাব্য মহাভারত-এর বিরাট পর্ব অংশের একটি পর্বের উপর কেন্দ্রিত, যেখানে চিত্রনাট্যটি কীচকের দ্রৌপদীকে পাওয়ার চেষ্টার উপর আলোকপাত করে। চলচ্চিত্রের অভিনয়ে মূল চরিত্রগুলিতে রয়েছেন রাজু মুদালিয়ার ও জীবর্থনাম।

১৯১০-এর দশকের শেষের দিকে মুক্তি পাওয়া কীচক বধম ব্যবসাহিকভাবে সফল হয় এবং ইতিবাচক সমলোচক প্রতিক্রিয়া অর্জন করে। চলচ্চিত্রটির সফলতা নটরাজ মুদালিয়ারকে একই রকমের বহুসংখ্যক ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য উৎসাহিত করে, যা দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য ভিত্তি স্থাপন করে এবং তাকে তামিল চলচ্চিত্রের জনক হিসেবে স্বীকৃত লাভ করতে সাহায্য করে। নটরাজ মুদালিয়ারের কাজ রঘুপতি সুরিয়া প্রকাশো ও জে. সি. ড্যানিয়েল-এর মতো অন্যান্য চলচ্চিত্র-নির্মাতাদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা ছিল।

রাজা বিরাটের সৈনবাহিনীর সেনাপতি, কীচক দ্রৌপদীকে যেকোন অবস্থায় পাওয়া ও বিবাহ করার চেষ্টা করেন; তিনি এমন কি দ্রৌপদীকে উৎপীড়ন করার চেষ্টা করেন, যা দ্রৌপদীকে ভীমের (তার স্বামী এবং পাণ্ডব ভ্রাতৃদ্বয়ের মধ্যে একজন) কাছে এই ঘটনা সম্পর্কে বলার জন্য পরিচালনা করে। পরবর্তীতে, যখন কীচক দ্রৌপদীর সাথে দেখা করেন, দ্রৌপদী তাকে একটি গোপন জায়গায় তার সাথে একাকী সাক্ষাৎ-এর জন্য অনুরোধ করেন। তিনি কথামত সেই স্থানে পৌছাঁয়, কিন্তু যানতে পারেন যে সেখানে দ্রৌপদীর পরিবর্তে ভীম রয়েছেন এবং ভীম তাকে ঘটনাস্থলে হত্যা করেন।

  • কীচক হিসেবে রাজু মুদালিয়ার
  • দ্রৌপদী হিসেবে জীবর্থনাম

উন্নয়ন

রাজা রবি বর্মা দ্বারা অঙ্কিত একটি রঙিন চিত্র
রাজা রবি বর্মা কর্তৃক কীচক ও দ্রৌপদীর একটি অঙ্কনচিত্র

মাদ্রাজের গাইটি থিয়েটারে দাদাসাহেব ফালকে-এর ১৯১৩ সালের পৌরাণিক চলচ্চিত্র রাজা হরিশচন্দ্র দেখার পর, মাদ্রাজে জন্মগ্রহণ করা এক গাড়ি বিক্রেতা, আর. নটরাজ মুদালিয়ার চলচ্চিত্রের উপর আগ্রহ গড়ে তুলেন। তিনি তখন স্টুয়ার্ট স্মিথ থেকে আলোকচিত্রবিদ্যা ও চিত্রগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলি শিখেছিল।

চিত্রগ্রহণ

  1. চলচ্চিত্র ইতিহাসবিদ এস. থিওডু বাস্কারাণ, চলচ্চিত্র পরিচালক আর. কে. সেলভামানি এবং ইতিহাসবিদ প্রেম চৌধুরী উল্লেখ করেন ১৯১৬ সালকে চলচ্চিত্রের মুক্তির বছর হিসেবে। অন্যদিকে চলচ্চিত্র ইতিহাসবিদ সুরেশ চাবরিয়া এবং ফিল্ম নিউজ আনন্দন বলেন যে চলচ্চিত্রটি ১৯১৭ সালে মুক্তি পায়।[১] চলচ্চিত্র ইতিহাসবিদ র‌্যান্ডোর গাই, এস. মুথিয়া এবং ইতিহাস অধ্যাপক নুট এ. জেকবসন দাবি করেন যে ১৯১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত।[২]

বই

পত্রিকা

ওয়েবসাইট

Copyright